NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা যায় দেখুন

একটি NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা যায়? সিম কার নামে নিবন্ধন চেক করব কিভাবে এইসব প্রশ্নের উত্তর প্রতিনিয়ত জানতে চান। এই প্রশ্নগুলো সাভাবিক ভাবেই আমাদের প্রত্যেকের মাঝে রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার প্রতারণা রোধে ২০১৫ সাল থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক করেছে। আর এখানেই বাজে বিপত্তি অনেকেই একাধিক সিম নিবন্ধন করার পর আইডি কার্ড দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন করেছে সেটি ভুলে যায়।

এই সমস্যা সমাধানে আজ আপনাদের জানাবো একটি NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে বা করা যাবে, আপনার ব্যবহৃত সিম কার নামে নিবন্ধন চেক করবেন কিভাবে – এছাড়াও কয়েকটি সিমের দারুন সব ইন্টারনেট অফার সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন। প্রথমে আমরা জেনে নিই একটি আইডি কার্ড দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা যায়।

NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা যায়

বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন শুরু হয় ১৬ ডি, ২০১৫ সাল থেকে; এর মূল লক্ষ্য জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধ করা। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন এর আগে অনেকে অসাধু ব্যাক্তি বিভিন্ন ভাবে সিম নিয়ে, সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করতো যা এখন অনেকটাই কমে গেছে।

আপনি যদি ভোটার হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় আপনার আইডি কার্ড রয়েছে, এখন প্রশ্ন হলো একটি NID কার্ড দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা যায়? উত্তর খুবই সহজ একটি আইডি কার্ড দিয়ে মোট ১৫টি সিম রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

তবে আপনার অপ্রয়োজনীয় সিম চাইলে বন্ধ করে দিতে পারবেন। সেই জন্য আপনি যে কোম্পানির সিম ব্যাবহার করেন সেই কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার সেন্টার গিয়ে বললেই হবে। অনেক সময় সিম হারিয়ে গেলে সেই সিমটি জরুরি ভাবে বন্ধ করার প্রয়োজন পড়ে, তখন আপনি কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার এর কাছে কল দিয়ে আপনার আইডি কার্ড নম্বর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দিতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলঃ ভোটার আইডি কার্ড পেতে কতদিন লাগে।

সিম রেজিস্ট্রেশন চেক অনলাইন

সিম কার নামে নিবন্ধন একটি আইডি কার্ডে কয়টি সিম নিবন্ধন করা হয়েছে সেটি জানার জন্য দুইটি পদ্ধতি রয়েছে। আমরা দুইটি পদ্ধতি বর্ণনা করছি আপনার পছন্দ অনুযায়ী নির্বাচন করুন।

প্রথম পদ্ধতি:  নিবন্ধন চেক করার জন্য আপনাকে *১৬০০১# ডায়াল করতে হবে। এই নম্বর ডায়াল করার পর ফিরতি মেসেজে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের শেষের চারটি সংখ্যা দিতে বলবে। এ পর্যায়ে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের অর্থাৎ NID কার্ডের শেষের চারটি সংখ্যা সাবমিট করে সেন্ড করুন। ফিরতি মেসেজে আপনার এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা সিমগুলোর নম্বর দেয়া হবে। এই হলো প্রথম পদ্ধতি।

দ্বিতীয় পদ্ধতি: নিবন্ধন চেক করার জন্য প্রথমে গ্রামীণ ফোন সফটওয়ার (My GP) ডাউনলোড করে নিন। এরপর লগইন করে মেনু অপশনে চলে যান। এবার একটু নিচের দিকে গেলে দেখতে পাবেন (Sim you own)  অপশন; সেখানে ক্লিক করে আপনার আইডি কার্ড এর শেষের ৪ডিজিট নম্বর দিয়ে (Continue) অপশনে ক্লিক করুন, এখন আপনার আইডি কার্ড দিয়ে কয়টি সিম নিবন্ধন করা হয়েছে দেখতে পাবেন।

উপরের পদ্ধতি ছাড়াও আরও বেশ কিছু পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন চেক করতে পারবেন।

হারানো সিম কার নামে রেজিস্ট্রেশন করা ছিল জানার উপায়

সিম যদি হারিয়ে যায়, তাহলে তা বন্ধ করতে কিংবা পুনরায় তুলতে যে এনআইডি দিয়ে নিবন্ধন করা ছিল, তা সাথে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য হারানো সিম কার নামে রেজিস্ট্রশন করা ছিল তা জানা অত্যন্ত জরুরী।

হারানো সিম কোন NID কার্ড দিয়ে নিবন্ধন করা ছিল তা জানার জন্য প্রথমেই আপনার অন্য কোন সিম দিয়ে উপরের নিয়মে অনুসরণ করে ডায়াল করুন অথবা যেকোনো কারো my GP অ্যাপ থেকে আপনার আইডি কার্ড নম্বর দিয়ে নিশ্চিত করে নিন সেটি আপনার আইডি কার্ড দিয়ে নিবন্ধন ছিল।

  • যদি  তালিকায় হারানো সিম থেকে থাকে, তাহলে আপনি নিশ্চত হতে পারবেন, যে এই ভোটার আইডি দিয়েই রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল।
  • যদি, এই তালিকায় না থাকে, তবে সম্ভাব্য কার আইডি কার্ড দিয়ে পুনরায় চেক করে দেখুন পেয়ে যাবেন।
  • তারপরেও কোন সমাধান না পেলে কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে আপনার সমস্যা খুলে বলুন; তারা আপনাকে সাহায্য করবে।

সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম

আইডি কার্ড দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তা দেখার পর যদি আপনি কোনো সিমের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে চান, তবে সেই সিম অপারেটরের নিজস্ব কাস্টোমার কেয়ারে ফোন দিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হবে।

কাস্টমার এজেন্টদের কাছে আপনার সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে ভেরিফিকেশনের জন্য কিছু তথ্য যেমন: নিজের নাম, পিতার নাম, ভোটার আইডি নাম্বার, সর্বশেষ রিচার্জের পরিমাণ ইত্যাদি জানতে চাইবে, আপনি সঠিক উত্তর দিলে আপনার সিমটি বাতিল করবে।

তাছাড়া, নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ারে গিয়েও আপনি আপনার যেকোন সিমের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করাতে পারবেন। তবে, আপনার অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার হতে হবে।

হারানো সিম বন্ধ করার উপায়

হারানো সিম বন্ধ করতে আপনাকে প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে আপনি কোন অপারেটরের সিম ব্যবহার করতেন, এরপর আপনি সেই অপারেটরের কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার এর মাধ্যমে সিমটি সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারবেন।

এছাড়া আপনি যদি গ্রামীণ ফোন অপারেটরের সিম ব্যবহার করে থাকেন এবং আপনার হারানো সিমটি যদি গ্রামীণ সিম হয়ে থাকে তাহলে, একটি বিকল্প ও সহজ পদ্ধতি রয়েছে গ্রামীণ ফোনের জন্য My GP অ্যাপ থাকে মেনু অপশনে চলে যান, নিচের দিকে দেখতে পাবেন (Block lost sim) সেখানে ক্লিক করে আপনার গ্রামীণফোন নম্বরটি লিখে সাবমিট করুন।

কাজ শেষ আপনার সিমটি সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে, পরবর্তীতে আপনি যেকোনো কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার থেকে আপনার হারানো সিমটি উত্তোলন করতে পারবেন।তাছাড়া, আপনার নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ারে গিয়েও হারানো সিমটি সাময়িকভাবে বন্ধ করাতে পারবেন।

সর্বশেষে বলতে চাই, আপনার সিম হারিয়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব, সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিন। অনেক প্রতারক চক্র ওত পেতে বসে থাকে মানুষকে হয়রানি করানোর জন্য।

Similar Posts

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments